আধুনিক যুগের ঝুমুরিয়া শিল্পীদের ঝুমুর রচনায় সর্বাধুনিক চিন্তা-ভাবনার ছাপ পড়েছে। সলবত মাহাত, কৃত্তিবাস কর্মকার, কুচিল মুখোপাধ্যায়, ধ্রুবসিং সর্দার, সদানন্দ সিং মুড়া সাম্প্রতিক কালের ঝুমুরিয়া শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। এদের রচনায় ঝুমুরগীতের বিষয়ে রাজনীতি, সামাজিক সমস্যা, লৌকিক সংস্কারগুলি জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
সলবত মাহাতো
সাম্প্রতিক কালের ঝুমুরিয়া শিল্পীদের আলোচনায় সর্বাগ্রে যে নামটি আসে, তিনি হলেন সলবত মাহাতো। ঝুমুরিয়া শিল্পী সলবত মাহাতো ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে পুরুলিয়া জেলার লটপদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাধাকৃষ্ণ বিষয়কঝুমুর, ভাদরিয়া, নাচনীশালিয়া, দাঁইড় ধরা ঝুমুরগীত তাঁর শিল্প সত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মনসামঙ্গলের জাত ধর্ম থেকে মনসামঙ্গলের কাহিনীকে ঝুমুরগীতে পরিবেশনের অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। ঝুমুর গানে অসাধারণ প্রতিভার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর সলবত মাহাতোকে “লালন পুরস্কারে” সম্মানিত করে।কৃত্তিবাস কর্মকার
ঝুমুরিয়া শিল্পী কৃত্তিবাস কর্মকার ১৩৪৯ বঙ্গাব্দে পুরুলিয়া জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর রচিত ঝুমুরগুলি মানভূমি বাংলা উপভাষায় কুর্মালী ভাষার মিশ্রণে সম্পূর্ণ আঞ্চলিক কাঠামোকে প্রকাশ করেছে। ঝুমুরগীতে সামাজিক বিষয়গুলি সুন্দরভাবে ফুঁটে উঠেছে। তাঁর রচিত কূর্মালী ঝুমুরগীত রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে চালু আছে।
কুচিল মুখোপাধ্যায়
ঝুমুরিয়া শিল্পী কুচিল মুখোপাধ্যায় ১৩৫১ বঙ্গাব্দে পুরুলিয়া জেলার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সাম্প্রতিক কালের ঝুমুরিয়া শিল্পীদের তুলনায় তিনিই একমাত্র প্রথাগত শিক্ষিত ঝুমুরিয়া শিল্পী। তাঁর রচিত ঝুমুরে আঞ্চলিক বাংলা উপভাষার শব্দবলী ও ভাষা কাঠামো বজায় আছে, আঞ্চলিক ছোটগল্পের ‘বুনন’ ঝুমুরগীতে প্রকাশ পায়। তিনি আধুনিক যুগের সমস্যাবলী ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিমায় ঝুমুরের ঢঙে প্রকাশ করেছেন। তাঁর গানে প্রচ্ছন্নভাবে লোকসংগীত শিল্পী দিনেন চৌধুরী ও গীতা চৌধুরীর গাওয়া লোকগীতিগুলি সঞ্চারিত হয়েছে। ‘যাইকরার ভালু সংহার’, ‘গুড় গোলমরিচ জিরা’ ইত্যাদি ঝুমুরগীতগুলি পুরুলিয়া অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কুচিল মুখোপাধ্যায় তাঁর ঝুমুরগীতগুলিকে ক্যাসেট করে সংরক্ষণ ও উপজীবিকার ব্যাবস্থা করেছেন। তিনি ছায়াছবি ‘সজনী লো সজনী’তে নেপথ্য কণ্ঠ সঙ্গীতে ঝুমুরগীত পরিবেশন করেছেন।


